লেখক মৃতঞ্জল রায়
কিশরকন্ঠ হতে সংগ্রহ
তোমাদের চারপাশে যেসব
গাছপালা, পাহাড়-পর্বত, নদী-
নালা, সাগর-মহাসাগর, আকাশ-
বাতাস রয়েছে সেগুলোকে
ঘিরেই গড়ে উঠেছে পৃথিবীর
প্রকৃতি। কখনো তোমরা বনে বনে
ঘুরে বনের প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হও,
কখনোবা সাগরের বিশাল ঢেউ
দেখে ভয়ে কেঁপে ওঠো।
আমরা বিশাল বিশাল পাহাড়
দেখে বিস্মিত হই, গভীর
গিরিখাতের ছবি দেখে অবাক
হই; তাই না? বাতাসের কী শক্তি
ভাবো তো! মুহূর্তের মধ্যে বড় বড়
গাছপালা সব উপড়ে ফেলে,
সাগরের জলকে ডাঙায় তুলে
দেয়। পাথরকেও কি বাতাস
নড়াতে পারে? সত্যিই বড় অদ্ভুত
এই পৃথিবীর প্রকৃতিরাজ্য, প্রকৃতির
খেলা বড় বোঝা দায়। প্রকৃতির
মাথা সব সময় ঠিক থাকে না।
তাই কখন যে সে কী করে বসে
তা বলা যায় না। ফলে পৃথিবীর
বুকে প্রকৃতি এমন সব বিস্ময়কর
ঘটনার জন্ম দেয় তার কোনো
ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না,
কোনো বইপত্রেও সেসব কথা
কেউ কখনো লেখেনি।
পৃথিবীতে কোনো কোনো
মানুষ মাঝে মধ্যে এমন সব
বিচিত্র ঘটনা দেখে যার
কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়
না অথবা সেসব ঘটনার কথা
অন্যকে বললে তারা কেউ
বিশ্বাসও করে না। সত্যিই
পৃথিবীর প্রকৃতির চেয়ে বিস্ময়কর
বিষয় বোধ হয় আর কিছু নেই।
প্রতিনিয়তই পৃথিবীর বুকে এমন সব
বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে চলেছে।
কোনো কোনো ঘটনা
একেবারেই দুর্লভ, বৈজ্ঞানিক
ব্যাখ্যার অতীত। হয়তো তা এই
গ্রহে মাত্র একবারই ঘটেছে।
চলো, এ রকম মজার আর বিস্ময়কর
কিছু প্রাকৃতিক ঘটনা আমরাও
দেখে নিই।
পায়ে পায়ে পাথর চলে
একবার ভাবো তো, পাথরের
মতো অত ভারী জিনিস হয়তো
তোমরা কেউ নাড়াতেই পারো
না। অথচ সেই পাথরই কিনা
নিজে নিজে অনেকটা পথ
চলতে পারে। পাথরের কি জীবন
আছে, পা আছে যে চলবে?
মানলাম যে ঢাল থাকলে আলগা
গোল গোল পাথরগুলো গড়িয়ে
অনেক দূর যেতে পারে। কিন্তু
সমতল বালুর বুকে চলে সে কোন
পাথর? আবার চলার সাথে
সাথে সেসব পাথর তার দাগও
রেখে যায়। সেই বিস্ময়কর ঘটনাই
পৃথিবীতে ঘটেছে। সেসব
পাথরের নাম দেয়া হয়েছে
চলমান পাথর।
ডেথ ভ্যালির এক মরুভূমির বুকে
ঘটে যাওয়া সে রকমের একটি
ঘটনা বিগত কয়েক দশক ধরে
নানারকম বৈজ্ঞানিক
ব্যাখ্যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত
হয়েছে। প্রায় ৫০ কেজি ওজনের
এক একটা পাথর আপনা আপনিই
প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত চলতে
পারে। কিছু বিজ্ঞানী
বলেছেন, প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ ও
বরফের সম্মিলিত প্রভাবে
এমনটি ঘটে থাকতে পারে।
কিন্তু সেটা হলে পাথরগুলো
এপাশে ওপাশে ছড়িয়ে
ছিটিয়ে চলতো এবং তাদের
চলার গতিপথও হতো ভিন্ন ভিন্ন।
একই দিকে প্রায় একই গতিতে
পাথর কেন চলবে? তারপরও অত
ভারী পাথরকে সরানো কি
বাতাসের কর্ম? ছোটখাটো
পাথর নাড়াতে হলেও কমপক্ষে
ঘণ্টায় ১৫০-১৬০ কিলোমিটার
গতিবেগের বায়ুপ্রবাহ দরকার
বলে পদার্থবিদেরা মত
দিয়েছেন। তাহলে অত বড়
পাথরগুলোর কি পা গজালো যে
নিজেরাই হেঁটে হেঁটে
পৃথিবী ভ্রমণে বের হলো! সত্যিই
বিস্ময়কর নয় কি? লোকেরা এসব
রহস্যময় পাথরের নাম দিয়েছেন
সেইলিং স্টোন।
পাথরের প্রাকৃতিক স্তম্ভ
পাথরের আকৃতি হয় অসম, গোল,
লম্বা, ডিমের মতো। কিন্তু
পৃথিবীতে এমন কিছু পাথরের
সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলো
অসম আকারের নয়, অদ্ভুত
জ্যামিতিক নকশা ও আকৃতি
বিশিষ্ট। আগ্নেয়গিরির পুরু ও
উত্তপ্ত লাভাস্রোত যখন ঠান্ডা
হতে শুরু করে তখন তা ভূমির
সাথে সমান্তরাল তথা
আনুভূমিকভাবে জমাট বাঁধে।
কিন্তু যখন ফাটে তখন তা
উল্লম্বভাবে ফাটে। এরূপ
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই
লাভাজমা পাথরগুলো তখন নিয়ত
জ্যামিতিক নকশায় সুষম
ষড়ভুজাকৃতি ধারণ করে। সেগুলো
দেখে মনে হয় কোনো মানুষ
বোধ হয় পাথর কেটে সেগুলো
সুন্দর করে তৈরি করে রেখেছে।
ষড়ভুজি সেসব পাথরখন্ডকে মনে
হয় মনুষ্যনির্মিত কোনো পাথরের
মসৃণ স্তম্ভ। আয়ারল্যান্ডের
উপকূলজুড়ে এরূপ পাথরের একটি
বিশাল স্তূপ রয়েছে যার নাম
জায়ান্টস কজওয়ে। তবে এ ধরনের
পাথরের বৃহত্তম স্তূপটি হলো
উয়োমিংয়ের ডেভিলস
টাওয়ার।
জলের নিচে নীল গহ্বর
মনে করো তুমি একটা বড় নদী বা
সাগরের বুকে স্পিডবোট নিয়ে
আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছ। হঠাৎ
স্পিডবোটটা একটা নীল গর্তের
ওপর এসে পড়লো। কেমন লাগবে
তখন? হ্যাঁ, জলের নিচে এরকম
আজগুবি গর্ত মাঝে মধ্যে দেখা
যায়। সাগরের জলের নিচে হঠাৎ
বিশাল আকৃতির শত শত ফুট গভীর
বৃত্তাকার গর্ত থাকে। এসব
গর্তের পানির রঙ হয় গাঢ় নীল।
বিশেষ করে ওপর থেকে দেখলে
পাশের জলের তুলনায় গর্তের
জলের রঙ বেশি নীল দেখায়। এ
জন্য এসব গর্তকে বলা হয় ব্লু হোল
বা নীল গহ্বর। এসব গহ্বর গভীর হলে
কী হবে, সেখানেও সমুদ্রচারী
ডুবুরিরা নেমে দেখেছেন যে
তার ভেতরে কী আছে! তারা
দেখেছেন যে সেসব গহ্বর
অক্সিজেনশূন্য, জলের সঞ্চালন হয়
খুব কম। কেন এ রকম হয় তা আজও
রহস্যাবৃত। অবশ্য কিছু কিছু নীল
গহ্বরে প্রাগৈতিহাসিক
কালের কিছু জীবাশ্মের সন্ধান
মিলতে পারে বলে
বিজ্ঞানীদের ধারণা।
সাগরে লালস্রোত
সাগরের বুকে আকাশের নীল রঙ
প্রতিফলিত হয় বলেই সাগরের
জলের রঙ নীল। কিন্তু সেই নীল
সাগরের বুকে যদি কেউ রক্তের
মতো লালস্রোত আর ঢেউ আসতে
দেখে তাহলে সেটা ভুতুড়ে
মনে হবে না কি? কোন কোনো
সাগরের জলে সে রকম ঘটনাই
ঘটে। মনে হয় যেন এইমাত্র
কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে
টগবগে গরম লাল লাভা এসে
সাগরে পড়েছে আর সেগুলো
সাগরের ফেনা হয়ে ভেসে
বেড়াচ্ছে। এক ধরনের লাল
শৈবাল বা এলজির কারণে
সাগরের পানিতে এমন
লালস্রোতের সৃষ্টি হয়। সাগরের
পানিতে প্রচুর পরিমাণে এসব
শৈবালের আনুবীক্ষণিক
এককোষী দেহ মিশে থাকে।
যার ফলে সাগরের জল রক্তের
মতো লাল রঙ ধারণ করে। এসব
শৈবালের মধ্যে কিছু শৈবাল
বিষাক্ত টক্সিন তৈরি করে যার
ফলে সেখানে আর কোনা মাছ,
পাখি বা সামুদ্রিক প্রাণী
বাঁচতে পারে না। এমনকি
মানুষের জীবনও এর ফলে বিপন্ন
হতে পারে।
আগুনের রংধনু
বৃষ্টির পর রোদ উঠলে আকাশে
অর্ধ বৃত্তাকার রংধনু ওঠে। কিন্তু
হঠাৎ করে কোথাও কোথাও এমন
এক রংধনু ওঠে যেগুলো দেখলে
মনে হয় আকাশের বুকে সাতরঙা
আগুনের শিখা উড়ছে। তবে এই
রংধনুর দেখা পাওয়া খুবই দুর্লভ
ঘটনা। নির্দিষ্ট এক ধরনের মেঘ
আকাশে না থাকলে এবং রংধনু
তৈরির সব পরিবেশ তৈরি না
হলে কখনো এ ধরনের রংধনু সৃষ্টি
হয় না। নির্দিষ্ট প্রকারের সেই
মেঘের ভেতরে থাকে জলের
স্ফটিকবিন্দু। সেই
স্ফটিকবিন্দুতে আলোক রশ্মি
বিচ্ছুরিত হয়ে বিভিন্ন দিকে
ছড়িয়ে পড়ে। বিচ্ছুরিত সেসব
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের দৈর্ঘ্য হয়
বিভিন্ন। কিন্তু সেসব
আলোকতরঙ্গ যদি সঠিকভাবে
ছড়াতে পারে তাহলে মাটি
থেকে তাকে আগুনে রংধনুর
মতোই মনে হয়। পৃথিবীতে এরূপ
ঘটনা সচরাচর ঘটে না। তাই
আগুনে রংধনুর ছবিও দু®প্রাপ্য।
আকাশজুড়ে দীপাবলি
কখনো কখনো ভূপৃষ্ঠ থেকে
আকাশের দিকে আলোকস্তম্ভ
তৈরি হয়। মরুভূমির মরীচিকার
মতোই সেগুলোকে সত্যিকারের
আলো বলে ভুল করে সবাই। দূর
থেকে দেখলে মনে হয় একটি
সরলরেখায় আলোক স্তম্ভ¢ যেন
সোজা উপরে উঠে গেছে। কেউ
মাটি থেকে আকাশে তীব্র
সার্চলাইট বা টর্চের আলো
ফেলছে। অদ্ভুত সেই আলোকস্তম্ভ
আসলে বরফের স্ফটিকের ওপর
পড়া সূর্য বা অন্য কোনো উৎস
থেকে পড়া আলোর প্রতিফলিত
রশ্মি। কিন্তু কেউ তা না
জানলে মনে হবে আকাশজুড়ে
কেউ আলোর দীপাবলি
সাজিয়েছে। আবার ভুতুড়ে
আলো ভাবলেও দোষের কিছু
নেই। চরম ঠান্ডা স্থানে এরূপ দৃশ্য
দেখা যায়। রাশিয়ার কোনো
কোনো জায়গায় আকাশজুড়ে
এরূপ দীপাবলির দেখা মেলে।
বিশেষ করে যেসব জায়গায় বরফ
পড়ে সমতল ও মসৃণ হয়ে সেসব
জায়গায় সূর্যাস্তের সময় বা
চাঁদনি রাতে এ দৃশ্য চোখে
পড়ে। বরফ স্ফটিকে আলোকরশ্মি
প্রতিফলিত হয়েই এরূপ দৃশ্য সৃষ্টি
হয়।
দোজখের দরোজা
দোজখ-বেহেশত কোথায় তা
জানা নেই। তবে দোজখের
আগুনের কথা কে না জানে?
তুর্কিমেনিস্তানের আহাল
প্রদেশে কারাকুম মরুভূমির
মাঝখানে দিরওয়াজি গ্রামে
১৯৭১ সাল থেকে জ্বলছে
দোজখের আগুন। বিশ্বের
সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক
গ্যাসের মজুদ রয়েছে সেখানে।
১৯৭১ সালে একদল সোভিয়েত
পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলী
কূপখননের সময় সালফারের
পোড়া গন্ধ টের পান। তারপর
সেখানে আগুন প্রজ্বলন করার পর
আর তারা তা নেভাতে
পারেননি। অবিরাম সেখানে
ফাটল থেকে গ্যাস বের হয়ে
জ্বলছে। জ্বলন্ত ফাটলটি প্রায় ৭০
মিটার লম্বা, ৬০ মিটার চওড়া ও
২০ মিটার গভীর। স্থানীয়
লোকদের কাছে বিরাট এই
জ্বলন্ত ফাটল ‘দোজখের প্রবেশপথ’
বলে পরিচিত। ইরাকেও এরূপ
একটি জ্বলন্ত স্থান রয়েছে যা
প্রায় ৪০০০ বছর ধরে জ্বলছে।
প্রবাল প্রাচীর
ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার
কুইন্সল্যান্ড উপকূলের কাছে
সমুদ্রে ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’
পৃথিবীর অন্যতম সপ্তাশ্চর্য
হিসেবে তালিকায় জায়গা
করে নিয়েছে। এটি পৃথিবীর
দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
সেখানে প্রায় ২৯০০টি আলাদা
আলাদা প্রবাল প্রাচীর প্রায়
১৬০০ মাইল ধরে ছড়িয়ে আছে।
তবে মজার ব্যাপার কি জানো?
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে
প্রায় ৯০০টি দ্বীপে ১,৩৩,০০০
বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত
সাগরের নিচে থাকা এই সুবৃহৎ
প্রাচীরকে কিন্তু জলের ওপর
থেকেই দেখা যায়। প্রাচীরটি
উত্তর থেকে দক্ষিণে এত বিশাল
জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে যে
এর দু’পাশে দু’ রকমের জলবায়ু
দেখা যায়। ফলে উত্তরের
দ্বীপগুলোয় আছে বাদল বন আর
পাহাড়ের প্রাধান্য, দক্ষিণের
দ্বীপগুলো শুধুই প্রবাল দিয়ে
গঠিত। ১৯৮১ সাল থেকে এটি
বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেও
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোটি
কোটি জীবন্ত খুদে কোরাল বা
প্রবাল হলো এই প্রাচীরের
স্থপতি। কোন জীবের পক্ষে
মহাসাগরে এত বিশাল এক কর্ম
করা সম্ভব, তা কি ভাবা যায়?
তবে সেখানে শুধু প্রবাল
প্রাচীরই নয়, খাড়ির ভেতরে
অনেক রঙবেরঙের মাছ ও
সামুদ্রিক গাছপালাও আছে।
সেগুলো দেখলেও চোখ
ছানাবড়া হয়ে যায়।
মেরুজ্যোতি
পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে গেলে
সেখানকার আকাশে মাঝে
মধ্যে অদ্ভুত সব আলোর খেলা
দেখা যায়। একে বলা হয়
আরোরা বা মেরুজ্যোতি।
সূর্যের রশ্মি পৃথিবীর অন্য
জায়গায় যেভাবে পড়ে, মেরু
অঞ্চলে ঠিক সেভাবে পড়ে না।
এ জন্য সে অঞ্চলের আকাশে
আলোর এক ধরনের খেলা চলে।
এরূপ আলোর খেলা তখনই
বিস্ময়ের সৃষ্টি করে যখন
আকাশে বর্ণময় আলোর ঢেউ
তৈরি হয়। ঢেউগুলোকে মনে হয়
আকাশে যেন নেচে নেচে
চলেছে। ভারি মজার সে দৃশ্য।
তবে কেউ কিন্তু লেজার রশ্মি
বা কৃত্রিম কোন আলো আকাশে
ফেলে এরূপ দৃশ্য তৈরি করে না।
এসব দৃশ্য সৃষ্টি হয়
প্রাকৃতিকভাবেই। প্রকৃতির এও এক
বিস্ময় বটে। এ জন্য প্রকৃতির সাত
আশ্চর্যের তালিকায়
মেরুজ্যোতিও ঠাঁই করে
নিয়েছে। মেরুজ্যোতির খেলা
সবচেয়ে বেশি ও সুন্দরভাবে
দেখা যায় উত্তর মেরুতে। তবে
দক্ষিণ মেরুতেও এ খেলা দেখা
যায়। মেরুজ্যোতির বিস্তৃতির
কোনো সীমারেখা নেই।
আকাশজুড়ে হঠাৎ হাজির হয়
ধোঁয়ার মতো আলোর ঢেউ।
সবুজ, গোলাপি, নীল ইত্যাদি
নানা রকম বর্ণচ্ছটায় মেরুর আকাশ
রঙিন হয়ে ওঠে মুহূর্তের জন্য।
মেরুজ্যোতিকে ভালো করে
দেখতে হলে যেতে হবে উত্তর
গোলার্ধের উত্তর মেরুতে।
নিদেনপক্ষে আলাস্কা বা
কানাডার আর্কটিক দ্বীপে
গেলেও মেরুজ্যোতির দেখা
মিলতে পারে। তবে দেখার জন্য
সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা
মেরুতে সাধারণত মার্চ থেকে
এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর থেকে
অক্টোবরের মধ্যে সাধারণত
মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
ঝড় বিজলির উৎসব
এই গ্রহে এমন এক জায়গা আছে
যেখানে ঝড় কখনো থামে না।
অবিরাম বিজলি চমকানো,
ঝড়বৃষ্টি যেন সেখানকার নিত্য
ঘটনা। ভেনিজুয়েলার
মারাকাইবু হ্রদে কাটাটুম্বু নদীর
মোহনায় চলে এমন এক ভৌতিক
খেলা। সেখানে বছরের ৩৬৫
দিনের মধ্যে ১৬০ দিন, দিনে
গড়ে ১০ ঘন্টা ধরে চলে ঝড়বৃষ্টি
আর বিজলির উৎসব। ঘণ্টায় প্রায়
২৮০ বার সেখানে বিজলি
চমকায় ও ঝড় আসে। সাধারণত
গোধূলিবেলার ১ ঘণ্টা পর
থেকেই এই ঝড় শুরু হয়। সেখানে ২
থেকে ১০ কিলোমিটার উঁচু
পর্যন্ত বিজলি রেখা দেখা
যায়। ঠান্ডা ও গরম বাতাসের
প্রবাহ মিলনের ফলেই এরূপ ঘটনার
সৃষ্টি হয়। সাধারণত জানুয়ারি
থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ ঘটনা
সেখানে চলতে থাকে। শত শত
বছর ধরে সেখানে
নিয়মিতভাবে এ ঘটনা চলে
আসছে।
লেখক প্রিতঞ্জল রায়
কিশরকন্ঠ হতে সংগ্রহ
www.kishorkantha.com

0 Comments
[আর্টিকেলটি ভালো লাগলে সেয়ার করুন]