আয়াতুল কুরসি
_____________________________________
(আয়তূল কুরসী ) প্রত্যেক ফরয
সালাতের পর আয়াতুল
কুরসী পাঠ করলে তাকে
জান্নাতে প্রবেশ করতে
মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু
বাধা হবে না **** আবূ
উমামা রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত:, তিনি
বলেন: আল্লাহর রাসূল
বলেছেন: “যে ব্যক্তি
প্রতি ফরয নামায শেষে
আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার
জান্নাতে প্রবেশ করতে
মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু
বাধা হবে না। (সহীহ আল্
জামে :৬৪৬৪) হজরত আলী
(রা.) বলেন, আমি
রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে
শুনেছি, যে ব্যক্তি
প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর
আয়াতুল কুরসি নিয়মিত
পড়ে, তার জান্নাত
প্রবেশে কেবল মৃত্যুই
অন্তরায় হয়ে আছে। যে
ব্যক্তি এ আয়াতটি
বিছানায় শয়নের সময়
পড়বে আল্লাহ তার ঘরে,
প্রতিবেশীর ঘরে এবং
আশপাশের সব ঘরে শান্তি
বজায় রাখবেন। (সুনানে
বাইহাকী ২৩৯৫) ***আয়াতুল
কুরসী মর্যাদাসম্পন্ন মহান
আয়াত**** আবু জর জুনদুব
ইবনে জানাদাহ (রা.)
নবী করিমকে (সা.)
জিজ্ঞেস করলেন, হে
আল্লাহর রাসূল (সা.)!
আপনার প্রতি সবচেয়ে
মর্যাদাসম্পন্ন কোন
আয়াতটি নাজিল
হয়েছে? রাসূল (সা.)
বললেন, আয়াতুল কুরসী।
(নাসায়ি) উবাই বিন কাব
থেকে বর্ণিত:নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম উবাই বিন
কা‘বকে জিজ্ঞাসা
করেন: “ তোমার কাছে
কুরআন মজীদের কোন
আয়াতটি সর্ব মহান? সে
বলে: (আল্লাহু লা ইলাহা
ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল
কাইয়্যূম) তারপর রাসূলুল্লাহ্
নিজ হাত দ্বারা তার
বক্ষে আঘাত করে বলেন:
আবুল মুনযির! এই ইলমের
কারণে তোমাকে
ধন্যবাদ”।সহীহ মুসলিম ১৭৫৫)
***জীনদের প্রভাব এবং
ভূত-প্রেত থেকে বাঁচার
জন্য আয়াতুল কুরসী পাঠ
পরীক্ষিত**** হযরত আবু
হুরাইরা থেকে বর্ণিত
:রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন:সুরা বাকারায়
একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত
রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল
কুরসী পাঠ করা হবে
সেখান থেকে শয়তান
পালাতে থাকে।
(মুসতাদরাকে
হাকিম:২১০৩) ***আয়াতুল
কুরসী রাত্রে পাঠ করলে
আল্লাহর পক্ষ থেকে তার
সাথে একজন রক্ষণা
বেক্ষণকারী ফেরেশতা
নিযুক্ত থাকেন এবং সকাল
র্পযন্ত শয়তান তার কাছে
আসতে পারেনা *** আবূ
হুরাইরা হতে বর্ণিত
হয়েছে, তিনি বলেন:
“একদা রাসূলুল্লাহ্
আমাকে রমযানের
যাকাতের হেফাযতে
নিযুক্ত করেন। রাতে এক
অজ্ঞাত ব্যক্তি আসে এবং
হাত ভরে ভরে যাকাতের
খাদ্য দ্রব্য চুরি করে। আমি
তাকে গ্রেফতার করি
এবং বলি: আল্লাহর কসম!
তোমাকে রসুলুল্লাহর
নিকট পেশ করবো। সে
বলে: আমি দরিদ্র আমার
সন্তান-সন্ততি আছে। আমি
খুব অভাবী। দুঃখ্ শুনে
আমি তাকে ছেড়ে দেই।
সকাল হলে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম আমাকে
বলেন: আবু হুরাইরা! গত
রাতে তোমার বন্দী কি
করেছিল? আমি উত্তরে
বলি: আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম সে আমার
কাছে দুঃখ-দুস্থতার কথা
বলে, ছেলে পেলের কথা
বলে। আমার মায়া চলে
আসে, আমি তাকে ছেড়ে
দেই। রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন সে
মিথ্যা বলেছে এবং সে
আবার আসবে। আমার
বিশ্বাস হয়ে যায় সে
অবশ্যই আসবে কারণ
রাসূলুল্লাহ্ পুনরায় আসার
কথা বললেন। আমি তাক
লাগিয়ে থাকি। রাতে
আবার হাত ভরে ভরে
যাকাতের খাদ্য চুরি
করে। আমি তাকে
গ্রেফতার করে রাসূলুল্লাহ্
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের দরবারে
পেশ করতে চাইলে, সে
বলে: ছেড়ে দাও ভাই!
আমি দুঃখি মানুষ,
বাড়িতে আমার সন্তান-
সন্ততি আছে, আমি আর
আসব না। কথা শুনে তার
প্রতি আমার রহম হয়। আমি
ছেড়ে দেই। সকালে
আল্লাহর রাসূল বলেন: আবূ
হুরাইরা তোমার কয়দীর
খবর কি? আমি উত্তরে বলি:
আল্লাহর রাসূল সে তার
দুঃখের কথা বলে, ছোট
ছোট বাচ্চার কথা বলে,
শুনে আমার রহম চলে আসে
আমি তাকে ছেড়ে
দিয়েছি। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন: সে
তোমাকে মিথ্যা
বলেছে এবং সে আবার
আসবে। আমি তৃতীয়বার
তার অপেক্ষায় থাকি।
আবার চুরি। পাকড়ও করে
বলি, এবার অবশ্যই
রাসূলুল্লাহর নিকট পেশ
করব। এটা শেষ তৃতীয়বার।
তুমি বলো: আর আসবে না,
আবার আস। সে বলে
আমাকে ছেড়ে দাও।
বিনিময়ে তোমাকে কিছু
বাক্য শিক্ষা দেব।
আল্লাহ তা দ্বারা
তোমার উপকার করবে।
আমি বলি সেগুলি কি?
সে বলে: যখন তুমি
বিছানায় শুতে যাবে তখন
আয়াতুল কুরসী পড়বে।
(আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা
হুয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূম) শেষ
আয়াত পর্যন্ত। এ রকম করলে
আল্লাহর পক্ষ থেকে
সর্বক্ষণের জন্য এক রক্ষক
নির্ধারণ করা হবে এবং
সকাল পর্যন্ত শয়তান
তোমার নিকটে আসবে
না। এর পর আমি তাকে
ছেড়ে দেই। সকালে
আল্লাহ্র রাসূল আবার
আমাকে জিজ্ঞাসা
করেন: গত রাতে তোমার
বন্দী কি করেছে? আমি
বলি: সে আমাকে এমন
কিছু কথা শিক্ষা দিতে
চায় যার দ্বারা আল্লাহু
আমার উপকার করবে। আমি
তাকে ছেড়ে দেই।
রাসূলুল্লাহ্ বলেন: সেই
কথাগুলি কি? আমি বলি:
সে আমাকে বলে:
ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন
বিছানায় যাবে তখন
আয়াতুল কুরসী শুরু থেকে
শেষ পর্যন্ত পড়বে (আল্লাহু
লা ইলাহা ইল্লাহ হুআল
হাইয়্যূল কাইয়্যূম) সে বলে:
এরকম করলে, তোমার
হেফাযতের উদ্দেশ্যে
আল্লাহর পক্ষ থেকে
সর্বক্ষণের জন্য এক রক্ষক
নির্ধারণ করা হবে এবং
সকাল পর্যন্ত শয়তান
তোমার নিকটবর্তি হবে
না। সবকিছু শুনার পর নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন: সে
আসলে মিথ্যুক কিন্তু
তোমাকে সত্য বলেছে।
আবুহুরায়রা ! তুমি কি জান,
তিন দিন ধরে তুমি কার
সাথে কথোপকথন
করছিলে? সে বলে: না।
রাসূলুল্লাহ্ সা: বলেন: ও
ছিল শয়তান। [সহীহ বুখারী
নং ২৩১১] ***সকালে সন্ধায়
যিকর করার সময় আয়াতুল
কুরসী পড়তে উৎসাহিত
করা হয়েছে**** উবাই
ইবনে কা‘ব রাদিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত, তাঁর এক
খেজুর রাখার থলি ছিল।
ক্রমশ খেজুর কমতে থাকত।
একরাতে সে পাহারা
দেয়। হঠাৎ যুবকের মত যেন
এক জন্তু! তিনি তাকে
সালাম করেন। সে
সালামের উত্তর দেয় ।
তিনি বলেন: তুমি কি ?
জিন না মানুষ? সে বলে:
জিন। উবাই রাদিয়াল্লাহু
আনহু বলেন: তোমার হাত
দেখি। সে তার হাত দেয়।
তার হাত ছিল কুকুরের
হাতের মত আর চুল ছিল
কুকুরের চুলের মত। তিনি
বলেন: এটা জিনের সুরত।
সে (জন্তু) বলে: জিন
সম্প্রদায়ের সাথে আমি
তাদের মধ্যে সবচেয়ে
সাহসী। তিনি বলেন:
তোমার আসার কারণ কি?
সে বলে: আমরা শুনেছি
আপনি সাদকা পছন্দ করেন,
তাই কিছু সাদকার
খাদ্যসামগ্রী নিতে
এসেছি। সাহাবী বলেন:
তোমাদের থেকে
পরিত্রাণের উপায় কি?
সে বলে: সূরা বাকারার
এই আয়াতটি (আল্লাহু লা
ইলাহা ইল্লাহ হুআল
হাইয়্যূল কাইয়্যূম)। যে
ব্যক্তি সন্ধায় এটি পড়বে,
সকাল পর্যন্ত আমাদের
থেকে পরিত্রাণ পাবে।
আর যে ব্যক্তি সকালে
এটি পড়বে, সন্ধা পর্যন্ত
আমাদের থেকে
নিরাপদে থাকবে। সকাল
হলে তিনি রাসূলুল্লাহ্র
কাছে আসেন এবং ঘটনার
খবর দেন। রাসূলুল্লাহ্
বলেন: খবীস সত্য
বলেছে” ( সহীহুত্
তারগীব:১/৪১৮] ***আয়াতুল
কুরসীর একটি জিহবা ও
দুটি ঠোট রয়েছে**** উবাই
বিন কাব থেকে
বর্ণিত:নবী কারীম
বলেন:আল্লাহর কসম!যার
হাতে আমার প্রাণ
আয়াতুল কুরসীর একটি
জিহবা ও দুটি ঠোট
রয়েছে এটি আরশের
পায়ার কাছে আল্লাহর
প্রশংসা করতে থাকে।
মুসনাদে আহমদ:২১৬০২
শয়নকালে ‘আয়াতুল কুরসী’
পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত
তার হেফাযতের জন্য
একজন ফেরেশতা
পাহারায় নিযুক্ত থাকে।
যাতে শয়তান তার
নিকটবর্তী হ’তে না
পারে (বুখারী, মুসলিম,
মিশকাত হা/২১২২-২৩;
নাসাঈ, সিলসিলা
ছহীহা হা/৯৭২)।

0 Comments
[আর্টিকেলটি ভালো লাগলে সেয়ার করুন]